হজ্জ

0
156
হজ্জ সম্পর্কে
১৭৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ বলেছেন, “যে লোক আমার ঘরে কিংবা আমার রাসূলের ঘরে অথবা বায়তুল মুকাদ্দাসে এসে আমায় যিয়ারাত করেছে, অতঃপর মারা গিয়েছে, সে শহীদী মৃত্যুবরণ করেছে।”

দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৭৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যে লোক বৈধ, অথবা ব্যবসায়ের, অথবা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ দ্বারা হজ্জ আদায় করে, আরাফাতের ময়দান থেকে বেরুবার আগেই তার পাপরাশি মাফ করে দেয়া হয়। আর কোন ব্যক্তি যখন অবৈধ-হারাম সম্পদে হজ্জ করে এবং বলে, ‘আমি তোমার সমীপে উপস্থিত আছি, তখন আল্লাহ বলেন, ‘তোমার কোন উপস্থিতি এবং মঙ্গল নেই। অনন্তর তার আমলনামা গুটিয়ে নেয়া হয় এবং তা তার চেহারার উপর ছুড়ে মারা হয়।”

দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৭৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যে লোক এরূপ পাথেয় ও পথ খরচের অধিকারী যা তাকে আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছাতে পারে, অথচ সে হজ্জ করেনি, তার জন্যে ইয়াহূদী বা খৃষ্টান হয়ে মারা যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। আর এটা আল্লাহ্‌ তার কিতাবে বলেন, “আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাঁর ঘরে হ্‌জ করার সামর্থ্য যার আছে, তার জন্যে হজ্জ্ব করা আবশ্যক (কর্তব্য)। আর যে লোক এটা অস্বীকার ও অমান্য করে (তার মনে রাখা উচিত যে) আল্লাহর বিশ্ববাসীদের মুখাপেী নন।”

তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আলী (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৭৮. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- উকুফে আরাফা বা আরাফার সন্ধ্যায় সেখানে থেমে থাকার তাৎপর্য এই যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সে সময় পৃথিবীর নিকটতম আসমানে নেমে আসেন এবং ফেরেশতাদের সাথে তোমাদের বিষয়ে গর্ব করে বলেন, আমার এ সকল বান্দা ধুলি- ধুসরিত অবস্থায় আমার করুনা লাভের আশায় আমার কাছে এসেছে। এতএব, যদি তোমাদের পাপসমূহ বালুকণার সমসংখ্যকও হয় বা বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় অসংখ্যা হয়, কিংবা গাছের বালুকণার সমসংখ্যকও হয় বা বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় অসংখ্য হয়, কিংবা গাছের পাতার মত অগণিত হয়, তথাপি নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাফ করে দেব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় অগ্রসর হও এবং যাদের জন্য তোমরা সুপারিশ করেছ তারাও ক্ষমাপ্রাপ্ত।”

ইবনে আসাকির এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৭৯. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমি যে বান্দার শরীর সুস্থ রেখেছি এবং তার জন্য তার জীবিকা প্রশস্ত করে দিয়েছি, আর এ অবস্থায় পাঁচ বছর চলে গিয়েছে, যার মধ্যে সে আমার দিকে আসেননি, নিশ্চয়ই সে বঞ্চিত হবে।”

আবূ ইয়ালা এ হাদীসটি হযরত আব্বার (রঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৮০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যখন আরাফাতের দিন আসে, তখন মহান ও পরাক্রান্ত রব পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং হাজীদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, “আমার বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য কর, তারা উষ্কখুষ্ক মাথায় ধুলি-ধুসরিত চেহারা নিয়ে বহুদূর থেকে আমাকে উচ্চৈস্বরে ডাকতে ডাকতে আমার ঘর দেখতে দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করে আমার কাছে এসেছে। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, তাদেরকে আমি মাফ করে দিয়েছি।” অতঃপর ফেরেশতাগণ নিবেদন করে, “ইয়া রব! তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই অমুক ও অমুক পাপীও রয়েছে।” তখন আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছে।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আরাফাতের দিন ছাড় আর কোন এমন দিন নেই, যেদিন এত বেশি সংখ্যক মানুষকে দোযখের আগুন থেকে মুক্ত করা হয়।”

ইবনু আবিদ-দুনয়া এ হাদীসটি হযরত জাবির (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

১৮১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমি যে বান্দার দেহ সুস্থ রেখেছি এবং তার জীবিকা প্রশস্ত করে দিয়েছি আর এ অবস্থায় পাঁচ বছরের মধ্যে সে আমার ঘর যিয়ারত করতে আসেনি, অবশ্যই সে মাহরুম হবে।”

ইবনে আদী ও বায়হাকী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

SHARE
Previous articleরোযা
Next articleযাকাত