ধৈর্যধারণ

0
66
বিপদে ধৈর্যধারণ সম্পর্কে
২৩৯. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেন, “আমি আমার কোন বান্দার সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু কেড়ে নেই না। (কেড়ে নিলে) তার প্রতিদান বেহেশত ছাড়া আর কিছুই আমার পছন্দনীয় নয়।”

আবূ নুয়াঈম এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি যখন আমার কোন বান্দার সবচেয়ে প্রিয়বস্তু দু’টি চোখ কেড়ে নেই, অতঃপর সে ধৈর্য্য ধারণ করে এবং পূণ্যের আশা করে, তাকে আমি বেহেশত ছাড়া আর কোন পুরস্কার দিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না।

তিবরানী ও হাকেম এ হাদীসটি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই কোন বান্দা যখন রোগগ্রোস্ত হয় তখন আল্লাহ্‌ তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন, “আমার বান্দাকে আমি আমার কায়েদ খানা সমূহের একটিতে আবদ্ধ করেছি। অতঃপর আমি যদি তার প্রাণ কেড়ে নেই, তবে আমি তাকে ক্ষমা করব। আর তাকে যদি সুস্থ করি, তবে সে এমন অবস্থায় উঠে বসবে যেন তার কোন পাপ নেই।”

হাকেম ও তিবরানী এ হাদীসটি হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- পূণ্য ভান্ডার তিনটি – দান-সাদকা গোপন রাখা, মুসবিত গোপন রাখা এবং রোগ সম্বন্ধে অভিযোগ গোপন রাখা। পরীক্ষা করি, অন্তর সে ছবর এখতিয়ার করে এবং আমার বিরুদ্ধে তার দর্শকদের কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করে না, আমি তখন তাকে বিপদমুক্ত করি এবং তার আগের গোশত ইত্তম গোশত এবং তার আগের রক্ত উত্তম রক্তে পরিবর্তন করে দেই। আর যদি আমি তাকে ছেড়ে দেই, তবে তাকে এমনভাবে ছেড়ে দেই যে, তার কোন পাপ থাকে না। আর তার যদি (মৃত্যু) ঘটাই, তবে আল্লাহর করুনার দিকে তাকে টেনে নেই।”

তিবরানী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার বিশ্বাসী বান্দার জন্য আমার কাছে বেহেশত ছাড়া আর কোন প্রতিদান নেই যখন আমি পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে তার প্রিয়তম বন্ধুকে ছিনিয়ে নেই এবং তারপরও সে আমার প্রতি আস্থাশীল থাকে।”

আহমদ ও বুখারী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৪. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মুসলমানদের এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যাকে শারীরিক অসুস্থতার মাধ্যমে বিপদগ্রস্থ করা হয় তার বিষয়ে মহান ও মতাশালী আল্লাহ বান্দার আমল লেখক ফেরেশতাকে ডেকে বলেন, “প্রত্যেক দিন ও রাতে এ বান্দার আমলনামায় সে পরিমাণ পূণ্য লিখ যা সে সুস্থাবস্থায় অর্জন করত এবং যতদিন সে আমার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে ততদিন পর্যন্ত এমন করতে থাক।”

আহমদ এ হাদীসটি হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যখন কোন বান্দার সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন আল্লাহ তার ফেরেশতাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের প্রাণ কেড়ে নিয়েছ?” তারা বলেন, “হ্যাঁ”। আল্লাহ তখন বলেন, “তোমরা কি তার হ্নদয়ের ফুল ছিনিয়ে নিয়েছ?” তারা বলেন, “হ্যাঁ” তখন সুমহান আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা তখন কি বলেছিল?” তারা বলে, সে তোমার হামদ বা প্রশংসা করেছিল (আলহামদুলিল্লাহ এবং ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তখন আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার এ বান্দার জন্য বেহেশতে একটি গৃহ নির্মান কর এবিং তার নাম রাখ – ‘বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসার ঘর।”

তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আবূ মুসা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমি যখন পৃথিবীতে আমার বান্দার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেই, তখন ওর বিনিময় আমার নিকট বেহেশত ছাড়া আর কিছুই নয়।”

তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ পূণ্যবানদের রক ফেরেশতাদের প্রতি এ প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেন, “দুঃখকালীন অবস্থায় আমার বান্দার বিরুদ্ধে তোমরা কোন কিছু লিখ না।”

দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আলী (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৮. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়াতাআ’লা বলেছেন, আমি যখন আমার বান্দাদের মধ্য কারো প্রতি কোন বিপদ পাঠাই তার দেহের উপর অথবা তার সন্তানের প্রতি কিংবা তার সম্পদের উপর, তারপরও সে উত্তম ধৈর্যের সাথে সেই বিপদকে গ্রহণ করে, কেয়ামত দিবসে আমি লজ্জা অনুভব করি যে, কি রূপে আমি তার জন্য পাল্লা স্থাপন করব এবং তার পাপ পূণ্যের খতিয়ান তার সামনে মেলে ধরব।”

হাকেম ও তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৪৯. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কোন বান্দা যখন রোগগ্রস্থ হয়, তখন মহান আল্লাহ্‌ তার কাছে দু’জন ফেরেশতা পাঠান এবং বলেন, “দেখ এ রোগী রোগ পরিদর্শনকারীদেরকে কি বলে?” অনন্তর সে যদি তাদের প্রবেশকালে আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে ফেরেশতারা তা আল্লাহর দরবারে নিয়ে যান। আর আল্লাহ্‌ তা অবগত আছেন। তখন সুমহান আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দার জন্য আমার সিদ্ধান্ত এই যে, আমি তার দেহের গোশত উত্তম গোশতে এবং তার রক্ত উত্তম রক্তে পরিবর্তন করব এবং আমি তার থেকে তার পাপসমূহ দূর করে দবে।”

দারু কুতনী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

২৫০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমি ভগ্ন-হৃদয় লোকদের কাছাকাছি অবস্থান করি।”

গাযযালী (রা) এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন।

২৫১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেন, “বিপদগ্রস্তদেরকে আমার আরশের কাছাকাছি কর। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে ভালোবাসি।”

এ হাদীসটি দায়লামী সংগ্রহ করেছেন।

২৫২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কেয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহ তাআ’লা বলবেন -“হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার শুশ্রূষা করনি।” বান্দা বলবে -“হে আমার প্রতিপালক। আপনিতো বিশ্বপালনকর্তা কিভাবে আমি আপনার শুশ্রূষা করব?” তিনি বলবেন -“তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি। তুমি কি জান জান না, যদি তুমি তার শুশ্রূষা করতে তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে।?” “হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি।” বান্দা বলবে -“হে আমার রব! তুমি হলে বিশ্ব পালনকর্তা, তোমাকে আমি রিরূপে আহার করাব?” তিনি বলবেন -“তুমি কি জান না যে, আমার অমুক বন্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাওনি। তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে বে আজ তা প্রাপ্ত হতে।?” “হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাওনি।” বান্দা বলবে -“হে আমার প্রভূ! তুমি তো রব্বুল আলামীন তোমাকে আমি কিভাবে পান করাব?” তিনি বলবেন, “তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল কিন্তু তাকে তুমি পান করাওনি। তাকে যদি পান করাতে তবে নিশ্চয় আজ তা প্রাপ্ত হতে।”

এ হাদীসটি হযরত আবূ হোরায়রা (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

রূগ্ন ব্যক্তির খোজ-খবর নেওয়া
২৫৪. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- “প্রত্যেক বান্দা, যে তার কোন ভাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেখতে যায়, তাকে জনৈক ঘোষক ফেরেশতা এই বলে আসমান থেকে সম্বোধন করেন, “তুমি সুখী হও এবং তোমার জন্য বেহেশত সুখের হোক।” মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ্‌ তখন তার আরশের সভাসদ ফেরেশতাগণকে ডেকে বলেন, “এক বান্দা আমার উদ্দেশে তার ভাইয়ের সাথে দেখা করেছে। সুতরাং তাকে দাওয়াত করে খাওয়ানোর দায়িত্ব আমার উপরে; আর সুমহান আল্লাহ তাঁর এ দায়িত্ব পূরণ করার জন্য বেহেশত ছাড়া আর কোন দাওয়াত পছন্দ করেন না।”

আবূ ইয়ালা এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

বার্ধক্য আল্লাহর নূর
২৫৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেন, “হে আদম সন্তান! নিশ্চয়ই বার্ধক্য আমার নূরসমূহের একটি নূর। আমার নূরকে আমি আমার আগুন দিয়ে শাস্তি দিতে লজ্জা বোধ করি।”

আবুশ শায়খ এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।